ফ্রুট স্যালাডের উপকারিতা | কিভাবে সেরা ফলের সালাদ তৈরি করবেন?
![]() |
Health Benifits Of Fruit Salad |
ফ্রুট সালাদ হল বিভিন্ন ধরনের ফলের সমন্বিত একটি ভরপুর পুষ্টিকর খাদ্য। ফ্রুট সালাদ সাধারণত কলা, আপেল, নাশপাতি, আনারস, আঙ্গুর, তরমুজ, স্ট্রবেরী, খিরা, গাজর, কমলালেবু, মসাম্বি, ডালিম, বিট, পেয়ারা, কিউই এবং চেরি ভালোকরে টুকরো টুকরো করে কেটে পরিবেশন করা হয়। যেহেতু বিভিন্ন রকমের ফল দিয়ে তৈরি তাই ফ্রুট সালাদ মানব শরীরে ভিটামিন-এ,বি,সি, প্রচুর অ্যান্টিক্সিডেন্ট, কালসিয়াম, মিনারেলস, ফাইবার, প্রোটিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আইরন এছাড়া আরো অনেক কিছু পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া যায়। ফ্রুট সালাদ আমাদের খাবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে, ফ্রুট সালাদ থেকে প্রচুর জল পাওয়া যায় ফলে শরিরে জলের পরিমাণ বাড়ায়, ফ্রুট সালাদ আমাদের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বাচ্চাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় সুতরাং এক কথায় বলতে ফ্রুট সালাদ হলো পুষ্টিগুণের ভান্ডার।
![]() |
Fruit Salad |
ফলের পুষ্টিগুণ ও কোন ফল খেলে কি উপকার হয় |ফলের উপকারিতা ও বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ | পুষ্টি চাহিদা পূরণে দেশি ফলের গুরুত্ব।
![]() |
ফ্রুট সালাদ এর রেসিপি |
কলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, অ্যাপেলর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, কমলালেবুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, মোসাম্বির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, আনার বা ডালিমর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, খীরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, গাজরের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা, বিটের পুষ্ঠিগুন ও উপকারিতা, আঙুরের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, স্ট্রবেরীর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, তরমুজের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, আনারসের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, নাশপাতির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, কিউই ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
১.কলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
কলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
কলা থেকে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়ামের পাওয়া যায় যা সোডিয়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করে। ভালো মাত্রায় পটাসিয়াম থাকায় মানব শরীরের হৃদ স্বাস্থ্য ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া কলা আমাদের পাচন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও পেট পরিষ্কার রাখে।
২. অ্যাপেলর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
অ্যাপেলর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
আপেলে একটি ভিটামিন -সি, ফাইবার সমৃদ্ধ ফল এছাড়াও আপেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টঅক্সিডেন্ট রয়েছে। স্ট্রোকের ঝুঁকি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা রয়েছে এই ফলটির। কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সময় এই ফল খাওয়া খুব উপকারী। আপেলের হাই ফাইবার, খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে।
৩. কমলালেবুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
কমলালেবুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
কমলালেবু যেমন খেতে সুস্বাদু তেমনি কমলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনের, আলফা, বেটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। কমলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪. মোসাম্বির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
মোসাম্বির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
মোসাম্বি লেবু ভিটামিন-সি যুক্ত একটি উচ্চ পুষ্টিকর ফল। মসম্বির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি এর ফলে ফ্লু, সর্দি-কাশি কিংবা অন্যান্য রোগ থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে। সপ্তাহে তিনদিন মোসাম্বি লেবুর খেলে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত কার্যকর।
৫. আনার বা ডালিমর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
আনার বা ডালিমর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
ডালিম আমাদের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায়। এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ফ্রি রেডিক্যাল, কোলেস্টেরল এবং রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে করতে সাহায্য করে। আর্থ্রাইটিস এর মত রোগ থেকে রক্ষা করে। ডালিম তরুণাস্থির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এই ফল। এছাড়া ডালিমের জুস গর্ভবতী মায়ের রক্ত বৃদ্ধি করে এবং মা ও শিশু উভয়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৬. খীরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
খীরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
খীরা আপনাদের শরিরে জলের পরিমাণ বাড়ায়। এছাড়া খিরা ওজন কমানোর জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খিরাতে রয়েছে ভালো পরিমাণে ভিটামিন সি ও সিলিকন। এই দুই উপাদান ত্বক ও চুল ভালো রাখতে পারে।
৭. গাজরের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা:
![]() |
গাজরের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা |
গাজরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন 'এ' রয়েছে। গাজরের মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখের অন্যান্য সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ইত্যাদির মতো সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে।
৮. বিটের পুষ্ঠিগুন ও উপকারিতা:
![]() |
বিটের পুষ্ঠিগুন ও উপকারিতা |
বিট গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করে। যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা রোজ সকালে কিংবা বিকালে বিটের জুস খেতে পারেন। বিটে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং নাইট্রেট মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। লো ফ্যাট থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৯. আঙুরের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
আঙুরের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
এই সুস্বাদু এ ফলের আছে নানা খাদ্য ও ঔষধিক গুণ। আঙুরে রয়েছে ভিটামিন কে, সি, বি১, বি৬ এবং খনিজ ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম নামক খনিজ উপাদান। আঙুর কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও হৃদরোগের মতো মারাত্বক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আঙুরের বীজ ও খোসায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আমাদের বার্ধক্য রোধে বিশেষ ভাবে কাজ করে।
১০. স্ট্রবেরীর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
স্ট্রবেরীর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
স্ট্রবেরিতে প্রচুর ভিটামিন এ, সি ফোলেট, ফসফরাস আর ম্যাঙ্গানিজ নামক খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। সারা দিনে গোটা তিন-চার স্ট্রবেরি খেতে পারলেই আপনার ভিটামিন সি এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়। স্ট্রবেরির খেলে দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
১১. তরমুজের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
তরমুজের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
তরমুজে প্রচুসংখ্যক জল থাকে তাই এই ফল খেলে শরিরে জলের পরিমাণ বাড়ায়। গুণ-হার্টের রোগ থেকে মুক্তি দিতে তরমুজ অপরিহার্য এছাড়া কার্ডিওভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, রোগের ঝুঁকি কমাতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। 3/10তরমুজের গুণ-তরমুজে বহু মিনারেল ও ভিটামিন থাকায় তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
১২.আনারসের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
আনারসের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আনারস খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানব দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় আনারস। লিভারের জন্ডিস হলে আনারস অত্যান্ত উপকারী।
১৩. পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল তাই পেয়ারা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।পেয়ারাতে ভিটামিন এ আছে আর যার কারণে এটি খেলে এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া এটি খেলে চোখের ছানি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। পেয়ারাতে প্রচুসংখ্যক ফাইবার থাকার ফলে শরিরে অনেক রকম রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
১৪. নাশপাতির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
নাশপাতির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে নাশপাতির জুড়ি নেই। বিকেলে বা রাতে খাওয়ার পর নাশপাতি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।এছাড়াও এর অনেক উপকারিতা রয়েছে ৫টি উপকারিতা নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
১. নাশপাতির জুস খেলে পেটের ব্যাথা, চুল পড়া ও মাথার খুশকি দূর হয়।
২. উচ্চমাত্রায় মিনারেল থাকায় নাশপাতি দেহে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। এটি হরমোন উৎপাদন এবং হাড়ের ক্ষয়রোধ করে।
৩. নাশপাতিতে আছে সলিউবল ফাইবার, য আমাদের শরিরে কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৪. এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে ও রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
৫.করোনারি থ্রম্বোসিস, হার্ট ব্লক, মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্যাকশন ইত্যাদি রোগে নাশপাতি খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়।
১৫. কিউই ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
![]() |
কিউই ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
কিউই ফল বিভিন্ন ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, E এবং B9, ক্যারোটেনয়েড এবং ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ। এই সবগুলি উপাদান হার্টের পক্ষে খুবই উপকারী। নিয়মিত কিউই ফল খেলে প্রদাহের জ্বালা, কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে এবং তা রক্তচাপ রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং মানব শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।